০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিয়াকৈরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধান, শ্রমিক সংকটে কৃষকের মাথায় হাত

মানব খবর ডেস্ক
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩০ শেয়ার
৫৫

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রশিদপুর এলাকার আলয় বিলে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে বিপুল পরিমাণ পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। সময়মতো কাটতে না পারায় মাঠেই পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। তার ওপর তীব্র শ্রমিক সংকট পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে। পানির নিচে সোনার ফসল, উঠানে তুলেও শান্তি নেয়।

দুপুরে আলয় বিলে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠের কাটার উপযোগী ধান হাঁটুপানির নিচে ডুবে আছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে কোমরপানিতে নেমে কাঁচি দিয়ে ধান কাটছেন। নৌকায় করে সেই ভেজা ধান উঁচু জায়গায় তুলে ট্রাকে বোঝাই করা হচ্ছে। কিন্তু পানিতে ভিজে ধানের শীষ থেকে চাল ঝরে পড়ছে, আবার কাটা ধান শুকানোর জায়গাও মিলছে না। রশিদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন,আমার দুই বিঘা জমির ধান একদম পাকা। দুই দিন আগে কাটতে চাইছিলাম। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে পুরা বিল ডুইবা গেছে। এখন পানি কমার অপেক্ষা ছাড়া উপায় নাই। কিন্তু পানি না কমলে সব ধান পচে শেষ।

ধান কাটার ভরা মৌসুম হলেও এলাকায় কামলা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকরা বলছেন, পানির মধ্যে নেমে কাজ করতে শ্রমিকরা দ্বিগুণ মজুরি চাচ্ছে। তাও মিলছে না।

কৃষক মোঃ আলম বলেন, ধান কাটার সময় পার হইয়া যাইতেছে, কিন্তু কামলা পাই না। পানির মধ্যে কেউ কাম করতে চায় না। ৮০০ টাকার কামলা এখন ১৫০০ টাকা চায়। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কই পাবো। কৃষক রহিম উদ্দিনের অভিযোগ, পানি থেকে ধান কষ্ট করে কাটছি এবং নৌকা যোগে উঠানে আনছি। বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে শুকাতে পারতেছি না। ভেজা ধান আড়তে নিলে দাম অর্ধেক কয়। একদিকে ফলন নষ্ট, অন্যদিকে দাম নাই। স্থানীয়দের দাবি, আলয় বিল থেকে পানি নামার মূল খালটি ভরাট হয়ে গেছে ও স্লুইসগেট অকেজো। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিলে জলাবদ্ধতা হয়। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার প্রায় ৩০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে উঁচু জায়গায় নিয়ে মাড়াই করার পরামর্শ দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয়ভাবে সেচ পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা চলছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে মেশিনের ব্যবস্থা করা হবে।

দ্রুত পানি না নামলে ও ধান কাটার ব্যবস্থা না হলে এ বছর আলয় বিলের কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে কালিয়াকৈর স্কুল ভবনের ওপর নারিকেল গাছ উপড়ে পড়ে শিক্ষার্থীসহ আহত বেশ কয়েকজন, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ট্যাগ

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুনঃ

কালিয়াকৈরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধান, শ্রমিক সংকটে কৃষকের মাথায় হাত

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
৫৫

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রশিদপুর এলাকার আলয় বিলে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে বিপুল পরিমাণ পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। সময়মতো কাটতে না পারায় মাঠেই পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। তার ওপর তীব্র শ্রমিক সংকট পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে। পানির নিচে সোনার ফসল, উঠানে তুলেও শান্তি নেয়।

দুপুরে আলয় বিলে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠের কাটার উপযোগী ধান হাঁটুপানির নিচে ডুবে আছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে কোমরপানিতে নেমে কাঁচি দিয়ে ধান কাটছেন। নৌকায় করে সেই ভেজা ধান উঁচু জায়গায় তুলে ট্রাকে বোঝাই করা হচ্ছে। কিন্তু পানিতে ভিজে ধানের শীষ থেকে চাল ঝরে পড়ছে, আবার কাটা ধান শুকানোর জায়গাও মিলছে না। রশিদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন,আমার দুই বিঘা জমির ধান একদম পাকা। দুই দিন আগে কাটতে চাইছিলাম। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে পুরা বিল ডুইবা গেছে। এখন পানি কমার অপেক্ষা ছাড়া উপায় নাই। কিন্তু পানি না কমলে সব ধান পচে শেষ।

ধান কাটার ভরা মৌসুম হলেও এলাকায় কামলা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকরা বলছেন, পানির মধ্যে নেমে কাজ করতে শ্রমিকরা দ্বিগুণ মজুরি চাচ্ছে। তাও মিলছে না।

কৃষক মোঃ আলম বলেন, ধান কাটার সময় পার হইয়া যাইতেছে, কিন্তু কামলা পাই না। পানির মধ্যে কেউ কাম করতে চায় না। ৮০০ টাকার কামলা এখন ১৫০০ টাকা চায়। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কই পাবো। কৃষক রহিম উদ্দিনের অভিযোগ, পানি থেকে ধান কষ্ট করে কাটছি এবং নৌকা যোগে উঠানে আনছি। বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে শুকাতে পারতেছি না। ভেজা ধান আড়তে নিলে দাম অর্ধেক কয়। একদিকে ফলন নষ্ট, অন্যদিকে দাম নাই। স্থানীয়দের দাবি, আলয় বিল থেকে পানি নামার মূল খালটি ভরাট হয়ে গেছে ও স্লুইসগেট অকেজো। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিলে জলাবদ্ধতা হয়। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার প্রায় ৩০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে উঁচু জায়গায় নিয়ে মাড়াই করার পরামর্শ দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয়ভাবে সেচ পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা চলছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে মেশিনের ব্যবস্থা করা হবে।

দ্রুত পানি না নামলে ও ধান কাটার ব্যবস্থা না হলে এ বছর আলয় বিলের কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে কালিয়াকৈর স্কুল ভবনের ওপর নারিকেল গাছ উপড়ে পড়ে শিক্ষার্থীসহ আহত বেশ কয়েকজন, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।