কালিয়াকৈরে হাটে মাছ কাটার রমরমা ব্যবসা- ৫ ঘণ্টা বঁটি চালিয়ে যুবকের আয় হাজারো টাকা
- প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৪৩:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৪ শেয়ার
ফজরের আজান শেষ না হতেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড, দোকানপাড়া, সফিপুর,মৌচাক ও বেনুপুর বাজারে শুরু হয়ে যায় জীবন যুদ্ধ। বঁটির ঝনঝনানি, মাছের আঁশ আর রক্ত-পানিতে ভেজা লাল পলিথিন। সকাল ৬টা থেকে বেলা ৪টা পর্যন্ত টানা কয়েক ঘণ্টা ছুরি চালিয়ে শত শত যুবক এখানে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সময়ের চাহিদায় কালিয়াকৈরের হাট-বাজারে গড়ে উঠেছে নতুন অর্থনীতি -মাছ কাটা সার্ভিস। এই সার্ভিস এখন কালিয়াকৈরের প্রায় দেড়শ পরিবারের আয়ের উৎস।
১ কেজি মাছ কাটা-২০ টাকা,৫ কেজি মাছ একসাথে-১০০ টাকা।
বড় মাছ কাটা আলোচনা সাপেক্ষে,
সফিপুর বাজারের শ্রমিক রুবেল মিয়া ৩৫ বলেন, সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা। ভালো দিনে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। খারাপ দিনে ৫০০ টাকা। এই টাকায় ৪ জনের সংসার, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া, ঘর ভাড়া সব।
দোকানপাড়ার সোহেল রানা এইচএসি পাস। তিনি বলেন, চাকরি নাই। বাবা রিকশা চালায়। ২ বছর ধরে মাছ কাটি। বৃষ্টিতে ভিজি, রোদে পুড়ি। হাত কাটলে ব্যান্ডেজ করে আবার কাজ। পেটের জন্য সব করা লাগে। সরকারি কলেজের ছাত্র রাকিব ১৯ বলেন, পড়াশোনার খরচ চালাতেই এই কাজ করি।
কালিয়াকৈর পৌরসভার ব্যাংক কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন,অফিসের চাপে বাসায় মাছ কাটার সময় নাই। ২০ টাকা দিলে সব কেটে ধুয়ে দেয়। সময়ও বাঁচে, ঝামেলাও নাই।
মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, _’এই সার্ভিস চালু হওয়ার পর আমার বিক্রি ৩০% বেড়েছে। মানুষ এখন নিশ্চিন্তে বড় মাছও কেনে।
কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, কালিয়াকৈরের হাট-বাজারে মাছ কাটা একটি জনপ্রিয় সেবায় পরিণত হয়েছে। এতে ক্রেতারা যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি শতাধিক যুবকের কর্মসংস্থানও হয়েছে। তবে মাছ কাটার সময় স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বঁটি, ছুরি ও কাটার স্থান যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে সেদিকে বাজার কমিটিকে নজর দিতে হবে। বর্জ্য যেন ড্রেনে না যায়, নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। আমরা চাই এই পেশার সাথে যারা জড়িত তারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ হয়ে উঠুক। সরকারিভাবে যদি কোনো প্রকল্প আসে আমরা সহযোগিতা করব।
শ্রমিকদের প্রধান দাবি একটি স্থায়ী শেড। শ্রমিক নেতা বাবুল হোসেন বলেন, রোদ-বৃষ্টিতে কাজ করতে হয়। বঁটির কোপে হাত কাটে। পৌরসভা যদি আমাদের জন্য একটা টিনের শেড আর পানির ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমরা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারব।’
কালিয়াকৈর বাজারে মাছ ব্যবসায়ী বলেন, এটা এখন বাজারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা পৌর মেয়রের সাথে কথা বলে এদের জন্য ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।









