উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মানব খবর, ডেস্ক রিপোর্ট ||
খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে টানা প্রায় ২৮ বছর ধরে দায়িত্বে আছেন সৈয়দ মো. আবদুল মোমেন। শুধু খাগড়াছড়িই নয়, দেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের ৭৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে অনুসন্ধান চালানো ৪৩টির উল্লেখযোগ্য অংশেই বছরের পর বছর শীর্ষ পদে একই ব্যক্তি বহাল রয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অন্তত ১৯টি ইউনিটে টানা ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে নেতৃত্বে কোনো বদল আসেনি এবং ৫ থেকে ৯ বছর ধরে একই পদে আছেন আরও ১১ জন। সম্প্রতি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা মহানগর কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর দীর্ঘ ২৮ বছর দায়িত্বে থাকা আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদকে অব্যাহতি দিয়ে কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর এবং রুকনদের গোপন ভোটে নেতা নির্বাচনের কথা বলা হলেও নির্বাচনের বিস্তারিত তথ্য অপ্রকাশিত থাকে। দলের একাংশের মতে, সার্বক্ষণিক দলের সময় দেওয়া ‘ফুল টাইমার’ নেতাদের পদ আঁকড়ে থাকার প্রবণতা এবং নির্বাচনে মনোনয়নের অগ্রাধিকারের কারণে নতুন নেতৃত্ব আসার সুযোগ সীমিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে থাকা নেতাদের তালিকায় আরও রয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রুহুল আমীন ভূঁইয়া (২৩ বছর), ঝালকাঠির হাফিজুর রহমান (২২ বছর), জয়পুরহাটের ফজলুর রহমান সাঈদ (২০ বছর) এবং রাজবাড়ীর নুরুল ইসলাম (১৯ বছর)। এছাড়া খুলনা, বরিশাল, বান্দরবান, রাঙামাটি, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহেও এক দশকের বেশি সময় ধরে একই নেতারা আমির পদে বহাল আছেন। কুড়িগ্রামের মো. আজিজুর রহমানও বিরতি দিয়ে ২২ বছর পর পুনরায় দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে পদ আঁকড়ে থাকার অভিযোগ মানতে নারাজ জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা। দলটির বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহানের দাবি, রুকনদের ভোটে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্বাচিত হয় এবং জেলা আমিররাই নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলেন। এছাড়া দল প্রয়োজন মনে করলে দায়িত্ব থেকে সরিয়েও দেয় বলে জানান তাঁরা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর সংসদে ৭৬টি আসন পেয়ে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান করছে। তবে প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দলটিতে পদ ও প্রার্থিতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধও প্রকাশ্যে আসছে। কুমিল্লার সংঘাত ছাড়াও স্থানীয় নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নরসিংদী ও চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাদের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘটনা দলটির শৃঙ্খলার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।