উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মানব খবর, ডেস্ক রিপোর্ট ||
ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে দুই হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে যার পরিমাণ ছিলো এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে লোকসান বেড়েছে ৪১ শতাংশ। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির মোট বকেয়া ঋণের ৫৯ দশমিক ৬৯ শতাংশই ছিল খেলাপি ঋণ। গত মাসে ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবার পর সর্বশেষ তারল্য সহায়তা পেল ব্যাংকটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ গ্যারান্টির আওতায় তিন মাসের ঋণ চুক্তির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসি ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসিকে সাত হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে ১৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে পারবে ন্যাশনাল ব্যাংক। একইসাথে গ্রাহকেরা তাদের আমানতের টাকা তুলতে পারবেন। তিন মাস মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশ। ইতোমধ্যে ঋণের অর্থ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনালী ব্যাংককে ওই অর্থ পরিশোধ করবে। ন্যাশনাল ব্যাংক ১৫ অক্টোবর থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা তুলতে পারবেন। ইতোমধ্যে ব্যাংকটি আমানত উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। গত ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার আবেদন জমা পড়েছে। গ্রাহকসেবা পুনরায় চালুর আগে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সব শাখায় প্রয়োজনীয় অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তারল্য সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমানের সাথে বৈঠক করেন। আমানতকারীদের টাকা পরিশোধের সুবিধার্থে তারা এ সহায়তা চান। বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সহায়তার আশ্বাস দেয়। একইসাথে ১৫ অক্টোবর থেকে সব শাখা ও এটিএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলনের সুযোগ নিশ্চিতে ব্যাংকটিকে নির্দেশনা দেয়। ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে গত চার বছরে ব্যাংকটির মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা।